নতুন সরকার বেআইনি নয়, বৈধও নয়
| আপডেট: ০৩:৫৬, জানুয়ারি ১৮, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ
ব্র্যাকের
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, দেশে যে নতুন
সরকার গঠিত হয়েছে, তাকে বেআইনি (ইললিগ্যাল) বলা যাবে না, আবার বৈধও
(ল্যাজিটিমেট) নয়।
ফজলে হাসান আবেদ বলেন, সবাই যখন ভোট দেবে, তখনই
সরকারকে বৈধ বলা যাবে। তাই দেশের দুই জোটের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত
আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের
সাধারণ পরিষদের আদলে করা ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে ফজলে হাসান আবেদ এ কথা
বলেন। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বিজনেস কমিউনিকেটর (আইএবিসি),
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আর্মি গলফ ক্লাবে এ সম্মেলনের উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা
বলেন ফজলে হাসান আবেদ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করাসহ
বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, সবাইকে
নিয়ে এবারের নির্বাচনটি হয়নি। এ নির্বাচনে সবাই ঠিকমতো ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচন যদি ভালোমতো হতে হয়, তাহলে আরেকটা নির্বাচন লাগবে। সবাই ভোট দিলে
যে সরকার আসবে, সেটাই হবে বৈধ সরকার। সুতরাং দুই মহাজোট যত তাড়াতাড়ি আরেকটি
নির্বাচন করতে পারে, তত তাড়াতাড়ি দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
গণতন্ত্র
মানে শুধু নির্বাচন নয়, এক দল গিয়ে আরেক দলের ক্ষমতায় আসা নয়—এ মন্তব্য করে
ব্র্যাকের চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন ও নিজেকে প্রকাশ
করার অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে
দুটি দলকেই বদলাতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে দুই দলকে সমানভাবে
নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।
ফজলে হাসান
আবেদ আরও বলেন, ‘দুই দল মিলে যদি নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে, সেটাই
হবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, দুই দল মিলে
যদি সুচিন্তিতভাবে কাজ করে, তাহলে তা সম্ভব।’
দেশে সাম্প্রতিক
সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফজলে হাসান আবেদ বলেন,
‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের গণতন্ত্রের প্রথম কথা। সংবিধানে আমরা সবার
জন্য সমান অধিকারের কথা বলেছি। গণতন্ত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘুসহ
সবার সমান অধিকার থাকবে। তারা কেন হামলার শিকার হবে? যারা হামলা চালাচ্ছে,
তারা অবৈধ কাজ করছে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সহিংস হবে না।’
জামায়াতে
ইসলামী সারা দেশে সহিংসতা চালাচ্ছে, এই অভিযোগে অনেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধের
দাবি করছে—এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ফজলে হাসান আবেদ বলেন, জামায়াতে
ইসলামীকে নিষিদ্ধ করলে যদি সহিংসতা বন্ধ হয়, তাহলে তাদের নিষিদ্ধ করা উচিত।
কিন্তু তাদের নিষিদ্ধ করলেই সহিংসতা বন্ধ হবে, এমনটা নয়। অনেক সময় নিষিদ্ধ
করলে সহিংসতা বাড়তে পারে। যদি নিষিদ্ধ না করে সহিংসতা বন্ধ করা যায়, তাহলে
সেই ব্যবস্থা করা উচিত। নিষিদ্ধ করলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে পারে।
তাদের সঙ্গে নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত।
মূল
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত বলেন, ২০১৫ সালের
পর জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সময়কাল শেষ হয়ে যাওয়ার
পর উন্নয়নের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা কী হবে, তা নিয়ে জাতিসংঘ আলোচনা করছে।
ব্র্যাক এ সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণদের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ভাবনা কী, তা
জানা-বোঝার উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্মেলনের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত
কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউন ইয়াং এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা
করে বলেন, সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি দিকে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি
আদর্শ রাষ্ট্র। আজকে বাংলাদেশের তরুণেরা এমডিজি-পরবর্তী উন্নয়নের যে নতুন
ধারণাপত্র তৈরি করবে, তা পরবর্তী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা তৈরিতে সহায়ক হবে।
উদ্যোক্তারা
জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আদলে মোট ১২টি অধিবেশনে ২০১৫ সালের পর
বিশ্বের উন্নয়নের যাত্রা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে তরুণদের ভাবনাগুলো নিয়ে
আলোচনা হবে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও কোস্টারিকার
প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ঘোষণাপত্র জাতিসংঘের সাধারণ
অধিবেশনেও তরুণদের ভাবনা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাভারের আবাসিক ক্যাম্পাসে পাঁচ দিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত
হবে। সম্মেলনের অংশীদার হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, চ্যানেল
আই, রেডিও ফুর্তি, সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ সোসাইটি, ইউথ অপরচুনিটিস (ওয়াইও),
ইনোভেশন, বিটনিক, জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র (ইউএনআইসি), নর সুপ ও ইয়ুথ টিভি।
বাংলাদেশে
প্রথমবারের মতো এই ছায়া জাতিসংঘ সভার আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এতে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪১২ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশ
নিচ্ছেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এ
ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে এখন থেকে প্রতিবছর ব্র্যাক এ
সম্মেলনের আয়োজন করবে।
No comments:
Post a Comment