জ্বলে উঠুন প্রযুক্তির আলোয় …

‘বর্তমান সংসদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৯:২৯, জানুয়ারি ২৪, ২০১৪
আকবর আলি খানতত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান বলেছেন, বর্তমান সংসদের আইনগত ভিত্তি যত দৃঢ়ই হোক না কেন, এর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সম্প্রতি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা একদিক থেকে বলতে গেলে একটি সঠিক নির্বাচন। আরেক দিক থেকে এটিকে সঠিক নির্বাচন বলা যাবে না।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আকবর আলি খান বলেন, ‘জাতীয় সংসদে যেসব আইনকানুন আছে এবং সংবিধানে যে সমস্ত আইনকানুন আছে, সেগুলোতে কোনো ব্যতিক্রম না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনটি সঠিক। কিন্তু সংবিধানে নির্বাচন রাখার পেছনের যুক্তিগুলো যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে আমরা দেখব নির্বাচন সঠিক হয়নি।’
আকবর আলি খান যত দ্রুত সম্ভব সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার তাগিদ দিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদের আইনগত ভিত্তি যত দৃঢ়ই হোক না কেন, এর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আকবর আলি খান বলেন, ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনের সাংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধরনের নির্বাচন পৃথিবীর কোনো দেশে হয় না এবং গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে বিধিসম্মত নয়। আর বাকি ১৪৭টি আসনে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ আসনে ফলাফল প্রায় আগে থেকে নিশ্চিত ছিল। সংবিধানে যে নির্বাচনের স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে, সে নির্বাচন সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সহিংসতা তার দায় সব রাজনৈতিক দলের। এই রাজনৈতিক সহিংসতার একটা কারণ হলো, যাঁরা নির্বাচনে জয়লাভ করেন তাঁরা তাঁদের দলের কর্মীদের মাফ করে দেন ও বিরোধী দলকে সাজা দিয়ে থাকেন। এ ধরনের মনোবৃত্তি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শাসনব্যবস্থায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যা-ই বলি না কেন, নির্বাচনী সহিংসতা দূর করা সম্ভব হবে না। এটি দূর করতে হলে সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠতে হবে। সামগ্রিকভাবে যে বিচারব্যবস্থা তাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’
দশম নির্বাচনের নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলে আকবর আলি খান আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে বর্তমান যে সংসদ নির্বাচিত হয়েছে সেই সংসদের আইনগত ভিত্তি যত দৃঢ়ই হোক না কেন, এর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের প্রয়োজন এবং সেটা সহিংসতার মাধ্যমে করা যাবে না, সমঝোতার মাধ্যমে করতে হবে। যেটা আমরা আগে থেকে করতে পারিনি, সেটার জন্য আমাদের আবার চেষ্টা করতে হবে। সমঝোতার মাধ্যমেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে।’
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার নির্বাচনী বিতর্ক অনুষ্ঠান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির বিতর্কের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংস ঘটনার দায়’।
সংসদীয় ধারার এই বিতর্কে অংশ নেন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে সরকারি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি দল ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

No comments:

Post a Comment