জ্বলে উঠুন প্রযুক্তির আলোয় …

আর স্কুলে যাবে না তিশা-বর্ষা

নাটোর প্রতিনিধি
তিশা (৫) ও বর্ষা (৫) স্কুলে এসেছে। কিন্তু ক্লাস করতে পারছে না। তাদের প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে স্কুলের মাঠে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় নাটোর সদর উপজেলার গাঁওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নাটোর-রাজশাহী সড়কে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় তাদের জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে।
নিহত তিশা সেনভাগ গ্রামের সহিদ হোসেন ও বর্ষা আবদুল জব্বারের মেয়ে। তারা গাঁওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় নাটোর-রাজশাহী মহাসড়ক পার হয়ে তিশা ও বর্ষা স্কুলে ঢুকছিল। এ সময় পেছন থেকে একটি মাইক্রোবাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ও সহপাঠী এবং শিক্ষকেরা ছুটে গেলেও মাইক্রোবাসটি পালিয়ে যায়। দুই শিশুর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ লোকজন কিছু সময়ের জন্য সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
পরে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লাইরুজ্জামান এসে ঘটনাস্থলে গতিরোধক নির্মাণ ও দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত তিশা ও বর্ষার স্মরণে আজ স্কুলে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
তিশার বাবা সহিদ হোসেন বলেন, ‘মা আমার স্কুলে গেল। আর ফিরল না। ওকে যারা বাড়ি আসতে দেয়নি, তাদের কঠিন বিচার চাচ্ছি।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ঘাতক মাইক্রোবাসের চালককে আটকের চেষ্টা করছি।’

No comments:

Post a Comment