জ্বলে উঠুন প্রযুক্তির আলোয় …

আল-কায়েদার হুমকি সরকার তদন্ত করছে

বিশেষ প্রতিনিধি | আপডেট
আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির কথিত ভিডিও বার্তায় দেওয়া হুমকির বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে। তবে আল-কায়েদার এ হুমকিতে সরকার বিচলিত নয়। কেননা যেকোনো জঙ্গি হুমকি মোকাবিলার সামর্থ্য সরকারের রয়েছে।
গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম আল-জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল দুপুরে তাঁর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিমত দেন।
এই তদন্তে সত্যতা মিললে বিএনপি-জামায়াতের আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
‘বাংলাদেশ: ম্যাসাকার বিহাইন্ড এ ওয়াল অব সাইলেন্স’ শীর্ষক এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে ‘ইসলামবিরোধী’দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের (ইন্তিফাদা) ডাক দিয়েছেন আয়মান আল-জাওয়াহিরি। একটি কথিত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।
কথিত ওই বার্তায় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে কটাক্ষ করেছেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তান ভাঙার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করে উপমহাদেশে তাদের দুর্বল করে দেওয়া। আল-জাওয়াহিরি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ আখ্যায়িত করেছেন।
আল-জাওয়াহিরি তাঁর বক্তব্যে সরাসরি হেফাজতে ইসলাম বা জামায়াতে ইসলামীর নাম উচ্চারণ করেননি। তবে বার্তাটির শুরুতে হেফাজতের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের স্থিরচিত্র দেখানো হয়। আর বক্তৃতার একটি অংশে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আল-কায়েদার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে জামায়াত। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের জঙ্গিবাদকে দলটি ঘৃণা করে বলেও গতকাল জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, কোথা থেকে কীভাবে বার্তাটি এসেছে, পুরো বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে।
বার্তাটিকে সরকার হুমকি মনে করছে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে এ ধরনের ঘটনা (আল-কায়েদার তৎপরতা) ঘটেছে, সেখানে স্থানীয়রা এতে ইন্ধন দেয়। কিন্তু আমাদের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, আল-কায়েদা চায় না।
জঙ্গিদের যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দেশের সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
কথিত ওই ভিডিও বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ভিডিও বার্তাটি কোথা থেকে আপলোড করা হয়েছে তা তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা শাখার। ওই তদন্তের পর এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এলে বিটিআরসি বাংলাদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেবে। গতকাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বিটিআরসিতে পাঠানো হয়নি।

No comments:

Post a Comment