জ্বলে উঠুন প্রযুক্তির আলোয় …

সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সিরাজ বাহিনীর প্রধান নিহত

খুলনা অফিস | আপডেট
সুন্দরবনের করমজল এলাকায় গতকাল শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ শিকদার নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
বিকেলে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন স্পট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বনের গহিনে একটি খালে অভিযানকালে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের ভাষ্য, ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনার পাইকগাছা থানায় একটি ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন কয়েকজন আসামি ডাকাতির সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা তাঁদের বাহিনীর প্রধান সিরাজ শিকদারের নাম প্রকাশ করেন।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করতে বাগেরহাটের রামপালে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, গতকাল ভোরে রামপাল উপজেলার তুজুলপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সিরাজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ডাকাতির কিছু গয়না উদ্ধার করা হয়। পরে সিরাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা ও বাগেরহাট শহর থেকে আরও আট ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সিরাজ শিকদার জানান, দাকোপ থানার সুন্দরবনের করমজল এলাকায় তাঁর বাহিনীর অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে সিরাজকে নিয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান ও দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাস আলীর যৌথ নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল সুন্দরবনে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায়। ঘটনা টের পেয়ে দস্যু বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলার পর দস্যুরা বনের আরও গভীরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান সিরাজ নিহত ও পুলিশের দুই কনস্টেবল আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনার পুলিশ সুপার গোলাম রউফ খান জানান, দস্যুরা পালিয়ে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সেখান থেকে একটি দেশি বন্দুক, দুটি পাইপগান, বন্দুকের ১০টি গুলি, চারটি দা ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দাকোপ থানায় মামলা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment