শিক্ষককে পেটাল জাবির ছাত্রলীগ নেতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Updated: 2014-01-23 22:30:27.0
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মামুন খান, যাকে শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে পেটানোর পর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মঈনুদ্দীনকে মারধরের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত এই ছাত্র হলে মামুন খান।
মঈনুদ্দীনের বিভাগের ছাত্র মামুন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক।
বৃহস্পতিবার
বিকালে সমাজ বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায় মামুন তার ওপর চড়াও হয় বলে মঈনুদ্দীন
জানিয়েছেন। ওই ভবনের তৃতীয় তলায় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ।
রাতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে মামুনকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত
হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এম এ মতিন এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
শৃঙ্খলা
কমিটির সদস্য বাংলা বিভাগের শিক্ষক সাজ্জাদ সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, মামুনকে সাময়িক বহিষ্কার করা ছাড়াও দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মামুনকে
কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার কারণ দর্শাতে
তাকে নোটিস দেয়া হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে
মামলা করবে।
মারধরের পর প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাতে শৃঙ্খলা
কমিটির বৈঠকে বসবে জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “দ্রুত
ব্যবস্থা নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আমরা।”
ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকায়
মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে গত বছরের
সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার দিন বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন মামুন। তখন কয়েকজন
শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ছিনিয়েও নিয়েছিলেন তিনি।
শিক্ষক পেটানোর
অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে
অবস্থান করছি, শিক্ষকরা আমাকে নিয়ে অযথা রাজনীতি করছেন।”
মারধরের
প্রত্যক্ষদর্শী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভবনের নিচে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দেখি
হঠাৎ করে পেছন দিক থেকে এসে মামুন খান শিক্ষক মঈনুদ্দীনকে কিল-ঘুষি মারছে।”
এরপর আহত শিক্ষক মঈনুদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই সময় তার কপালে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।
মারধরের
ঘটনা শুনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজিত কুমার মজুমদারের নেতৃত্বে শতাধিক
শিক্ষক সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
অধ্যাপক
মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য
অধ্যাপক আনোয়ারের দীর্ঘ দিনের অপশাসন দায়ী, অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ
প্রতিরোধ গড়ে তুলব আমরা।”
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি পদত্যাগ
করেন অধ্যাপক আনোয়ার। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন
অধ্যাপক এম এ মতিন।
শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রগতিশীল
শিক্ষকদের মোর্চা ‘শিক্ষক মঞ্চ’র নেতা অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের দুর্বৃত্তপনা সহ্য করা উচিত নয়,
পদক্ষেপ নিতে বলেছি সংশ্লিষ্টদের।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান তার নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রকাশনা সম্পাদকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনি
সাংবাদিকদের বলেন, “দোষী প্রমাণিত হলে মামুন খানের বিরুদ্ধে প্রশাসন যে
ব্যবস্থা নেবে আমরা তা মেনে নেব। পাশাপাশি সাংগঠনিক ভাবেও তার বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেয়া হবে।
No comments:
Post a Comment