|
আপডেট: ০৪:৪৮, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সরকার, আইন, সাধারণ মানুষের
স্বার্থ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না এনা প্রপার্টিজ। রাজউকের সঙ্গে
চুক্তি বাতিল হলেও প্রকল্প এলাকা ছাড়ছে না প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির শর্ত
অনুযায়ী এনা প্রপার্টিজকে জরিমানাও করছে না রাজউক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংসদ এনামুল হক।
রাজউক সূত্র জানায়, সাংসদের হুমকির কারণে এখন পুরো প্রকল্পই জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তার কারণে প্রায় ৫০০ গ্রাহক ইতিমধ্যে তাঁদের জামানত ও প্রথম কিস্তির টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১৬ তলা ৪৯টি ভবনের নির্ধারিত কাজ সময়মতো করতে না পারায় রাজউক এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করে গত ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু এনা প্রপার্টিজ প্রকল্প এলাকা ছাড়েনি। রাজউকও তাদের সেখান থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একটি চিঠি দিয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব সেরেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
এ অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি সামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিকে ওই প্রকল্পে উপঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) নিয়োগ করেছে এনা। রাজউক বলেছে, তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানে না।
২০১০ সালের শেষ দিকে সাড়ে ছয় হাজার গ্রাহক এ অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফ্ল্যাট পেতে আবেদন করেন। এর মধ্যে ছয় হাজার লোককে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয় রাজউক। এই গ্রাহকেরা প্রায় ১০ লাখ টাকা করে রাজউকে জমা দেন। কিন্তু সাড়ে তিন বছরেও প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি না হওয়ায় এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা না থাকায় প্রায় ৫০০ গ্রাহক তাঁদের জামানত ও প্রথম কিস্তির টাকা তুলে নিয়েছেন। এখনো অনেকে টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করছেন।
সরকারদলীয় সাংসদ এনামুল হক ও নসরুল হামিদের (বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী) প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে এনা প্রপার্টিজ ও হামিদ রিয়েল এস্টেট প্রভাব খাটিয়ে এ প্রকল্পের কাজ নেয়। আইন অনুযায়ী সাংসদেরা সরকারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন না।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এনার সঙ্গে রাজউকের চুক্তি হয়।
দুই বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ হওয়ায় রাজউক এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।
একাধিক গ্রাহক প্রথম আলোকে বলেন, এসব দেখে প্রকল্পের গোড়াতেই তাঁদের আস্থা নষ্ট হওয়া শুরু হয়। ফলে তাঁরা টাকা তুলে নিয়ে যান।
এনা প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে গতকাল শনিবার সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে উপঠিকাদারি চুক্তির কথা অস্বীকার করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুলিপি প্রথম আলোর কাছে আছে জানালে তিনি বলেন, এত বড় কাজ, সাব-কন্ট্রাক্ট তো দিতেই হবে। রাজউক চুক্তি বাতিল করায় আপনি আইনত আর এ প্রকল্পের সঙ্গে নেই। তার পরও কীভাবে অন্য কোম্পানির কাছে কাজ বিক্রি করলেন—জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, এখন তো কাজ হচ্ছে, অসুবিধা নেই। রাজউক আপনার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের যে চিঠি দিয়েছে তা তো এখনো বহাল আছে—এ প্রসঙ্গ তুললে তিনি ফোন লাইন কেটে দেন। এনার কথিত উপঠিকাদার সামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড চৌধুরী গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। চৌধুরী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাদের গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজউক এনার চুক্তি বাতিলের চিঠি প্রত্যাহার করেনি, এ তথ্য আমরা জানতাম না।’
উপঠিকাদারি চুক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আবদুল মান্নান বলেন, এনা প্রপার্টিজের বিষয়ে রাজউক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
রাজউক সূত্র জানায়, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ব্লক ‘এ’তে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকার কাজ এনা প্রপার্টিজ এ পর্যন্ত চারটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করেছে। এর মধ্যে শুরু থেকে কোরিয়ান কোম্পানি ডুঙ্গা ও ডিডিজেকে ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এনা ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের অপর একটি কোম্পানিকে সামনে নিয়ে আসে। চুক্তি বাতিলের পথ রুদ্ধ করতে তৃতীয় পর্যায়ে গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার এএলম বিল্ডার্স এবং গেমিল্যাং ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওএ) সই করে। সবশেষ তারা সামিন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে উপঠিকাদারি দেয়।
উপঠিকাদারি চুক্তিতে যা আছে: এনা প্রপার্টিজ ও সামিন রিয়েল এস্টেটের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তাতে ৩২টি শর্তের উল্লেখ আছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমানে এনা প্রপার্টিজের বাকি কাজ সামিন রিয়েল এস্টেট নিজ খরচে, তত্ত্বাবধানে, নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করবে। সামিন এককভাবে ও একক সিদ্ধান্তে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। রাজউক বা গণপূর্ত অধিদপ্তর এনাকে যে বিল পরিশোধ করবে, তা বিভিন্ন ব্যাংকে সামিন রিয়েল এস্টেটের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হবে।
প্রকল্প এলাকার প্রবেশপথে রাজউক ও এনার একটি যৌথ সাইনবোর্ড আছে। সেখানে সম্প্রতি সামিন রিয়েল এস্টেটের স্টিকার লাগানো হয়েছে। রাজউক এ স্টিকার সরাতে গেলে এনা প্রপার্টিজের লোকজন বাধা দেন। শেষ পর্যন্ত তা সরাতে পারেনি রাজউক।
ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিপূরণ: রাজউকের সঙ্গে এনা প্রপার্টিজের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে শর্ত ছিল, সময়মতো কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একেকটি লটে (দুটি ভবন) গড়ে ৭০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল।
রাজউক সূত্র জানায়, প্রতিটি লটের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল চুক্তিতে। সেই হিসাবে ২৫টি লটের জন্য এনা প্রপার্টিজকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৩০০ কোটি টাকা।
কিন্তু রাজউক এখন পর্যন্ত এনা প্রপার্টিজের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের কোনো চিঠি দেয়নি। ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি বাতিলের চিঠিতেও জরিমানার বিষয়ে কিছু বলেনি রাজউক।
রাজউকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে এনা প্রপার্টিজ রাজউকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে।
জানতে চাইলে সাংসদ এনামুল হক সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক কাজ করেছি। এমন কিছু করলে তো আমরা মামলা করতেই পারি।’
রাজউকের সূত্র জানায়, মামলা হলে প্রকল্পটি আটকে থাকবে—এ ভয় দেখানো হচ্ছে রাজউককে। এতে সাধারণ গ্রাহকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছয় হাজার গ্রাহক ৫৬০ কোটি টাকা রাজউকে জমা দিয়েছেন।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প ও এনা প্রপার্টিজকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটু সময় দিন।’
রাজউক সূত্র জানায়, সাংসদের হুমকির কারণে এখন পুরো প্রকল্পই জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তার কারণে প্রায় ৫০০ গ্রাহক ইতিমধ্যে তাঁদের জামানত ও প্রথম কিস্তির টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১৬ তলা ৪৯টি ভবনের নির্ধারিত কাজ সময়মতো করতে না পারায় রাজউক এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করে গত ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু এনা প্রপার্টিজ প্রকল্প এলাকা ছাড়েনি। রাজউকও তাদের সেখান থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একটি চিঠি দিয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব সেরেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
এ অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি সামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিকে ওই প্রকল্পে উপঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) নিয়োগ করেছে এনা। রাজউক বলেছে, তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানে না।
২০১০ সালের শেষ দিকে সাড়ে ছয় হাজার গ্রাহক এ অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফ্ল্যাট পেতে আবেদন করেন। এর মধ্যে ছয় হাজার লোককে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয় রাজউক। এই গ্রাহকেরা প্রায় ১০ লাখ টাকা করে রাজউকে জমা দেন। কিন্তু সাড়ে তিন বছরেও প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি না হওয়ায় এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা না থাকায় প্রায় ৫০০ গ্রাহক তাঁদের জামানত ও প্রথম কিস্তির টাকা তুলে নিয়েছেন। এখনো অনেকে টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করছেন।
সরকারদলীয় সাংসদ এনামুল হক ও নসরুল হামিদের (বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী) প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে এনা প্রপার্টিজ ও হামিদ রিয়েল এস্টেট প্রভাব খাটিয়ে এ প্রকল্পের কাজ নেয়। আইন অনুযায়ী সাংসদেরা সরকারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন না।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এনার সঙ্গে রাজউকের চুক্তি হয়।
দুই বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ হওয়ায় রাজউক এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।
একাধিক গ্রাহক প্রথম আলোকে বলেন, এসব দেখে প্রকল্পের গোড়াতেই তাঁদের আস্থা নষ্ট হওয়া শুরু হয়। ফলে তাঁরা টাকা তুলে নিয়ে যান।
এনা প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে গতকাল শনিবার সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে উপঠিকাদারি চুক্তির কথা অস্বীকার করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুলিপি প্রথম আলোর কাছে আছে জানালে তিনি বলেন, এত বড় কাজ, সাব-কন্ট্রাক্ট তো দিতেই হবে। রাজউক চুক্তি বাতিল করায় আপনি আইনত আর এ প্রকল্পের সঙ্গে নেই। তার পরও কীভাবে অন্য কোম্পানির কাছে কাজ বিক্রি করলেন—জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, এখন তো কাজ হচ্ছে, অসুবিধা নেই। রাজউক আপনার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের যে চিঠি দিয়েছে তা তো এখনো বহাল আছে—এ প্রসঙ্গ তুললে তিনি ফোন লাইন কেটে দেন। এনার কথিত উপঠিকাদার সামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড চৌধুরী গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। চৌধুরী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাদের গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজউক এনার চুক্তি বাতিলের চিঠি প্রত্যাহার করেনি, এ তথ্য আমরা জানতাম না।’
উপঠিকাদারি চুক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আবদুল মান্নান বলেন, এনা প্রপার্টিজের বিষয়ে রাজউক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
রাজউক সূত্র জানায়, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ব্লক ‘এ’তে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকার কাজ এনা প্রপার্টিজ এ পর্যন্ত চারটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করেছে। এর মধ্যে শুরু থেকে কোরিয়ান কোম্পানি ডুঙ্গা ও ডিডিজেকে ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এনা ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের অপর একটি কোম্পানিকে সামনে নিয়ে আসে। চুক্তি বাতিলের পথ রুদ্ধ করতে তৃতীয় পর্যায়ে গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার এএলম বিল্ডার্স এবং গেমিল্যাং ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওএ) সই করে। সবশেষ তারা সামিন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে উপঠিকাদারি দেয়।
উপঠিকাদারি চুক্তিতে যা আছে: এনা প্রপার্টিজ ও সামিন রিয়েল এস্টেটের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তাতে ৩২টি শর্তের উল্লেখ আছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমানে এনা প্রপার্টিজের বাকি কাজ সামিন রিয়েল এস্টেট নিজ খরচে, তত্ত্বাবধানে, নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করবে। সামিন এককভাবে ও একক সিদ্ধান্তে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। রাজউক বা গণপূর্ত অধিদপ্তর এনাকে যে বিল পরিশোধ করবে, তা বিভিন্ন ব্যাংকে সামিন রিয়েল এস্টেটের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হবে।
প্রকল্প এলাকার প্রবেশপথে রাজউক ও এনার একটি যৌথ সাইনবোর্ড আছে। সেখানে সম্প্রতি সামিন রিয়েল এস্টেটের স্টিকার লাগানো হয়েছে। রাজউক এ স্টিকার সরাতে গেলে এনা প্রপার্টিজের লোকজন বাধা দেন। শেষ পর্যন্ত তা সরাতে পারেনি রাজউক।
ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিপূরণ: রাজউকের সঙ্গে এনা প্রপার্টিজের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে শর্ত ছিল, সময়মতো কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একেকটি লটে (দুটি ভবন) গড়ে ৭০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল।
রাজউক সূত্র জানায়, প্রতিটি লটের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল চুক্তিতে। সেই হিসাবে ২৫টি লটের জন্য এনা প্রপার্টিজকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৩০০ কোটি টাকা।
কিন্তু রাজউক এখন পর্যন্ত এনা প্রপার্টিজের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের কোনো চিঠি দেয়নি। ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি বাতিলের চিঠিতেও জরিমানার বিষয়ে কিছু বলেনি রাজউক।
রাজউকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে এনা প্রপার্টিজ রাজউকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে।
জানতে চাইলে সাংসদ এনামুল হক সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক কাজ করেছি। এমন কিছু করলে তো আমরা মামলা করতেই পারি।’
রাজউকের সূত্র জানায়, মামলা হলে প্রকল্পটি আটকে থাকবে—এ ভয় দেখানো হচ্ছে রাজউককে। এতে সাধারণ গ্রাহকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছয় হাজার গ্রাহক ৫৬০ কোটি টাকা রাজউকে জমা দিয়েছেন।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প ও এনা প্রপার্টিজকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটু সময় দিন।’
No comments:
Post a Comment