শিশু গৃহকর্মীকে বর্বরভাবে নির্যাতন, দম্পতি গ্রেপ্তার
|
আপডেট
নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আসমাউলের মা শিল্পী খাতুন এ ঘটনায় ওই রাতেই চুয়াডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতিকে গতকাল বৃহস্পতিবার থানা থেকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসমাউল জেলার জীবননগর উপজেলার সুবলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির শ্রমিক শহিদুল স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও চার সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে শহরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। রেজাউল-রত্না দম্পতি থাকেন ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে।
আসমাউল বলে, ঢাকার ওই বাসায় এক বছর ধরে প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিদিন সকালে দুটি রুটি খেতে দিয়ে রেজাউল-রত্না কর্মস্থলে যেতেন। প্রায়ই বাড়ি ফিরতে তাঁদের সন্ধ্যা হতো। তাই মাঝেমধ্যে ঘরে থাকা খাবার খেলে রত্না তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেন। কখনো খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করতেন। দিনভর কাজ শেষে রাতে ঝিমুনি এলে চোখে আঘাত করতেন। প্রায় দিনই এভাবে নির্যাতন চালানো হতো। তবে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ না থাকায় এ কথা কাউকে জানাতে পারেনি।
বাসায় প্রতিবেশী বা মেহমান এলে তাদের সামনে তাকে যেতে দেওয়া হতো না। ১৫ দিন আগে দুপুরে না বলে ভাত খাওয়ায় গরম তাওয়া দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এতে চামড়া ঝলসে ঘা হয়ে যায়। এর পরও তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়নি।
শিল্পী খাতুন বলেন, অভাবের সংসারে সহযোগিতার নামে দূরসম্পর্কের আত্মীয় চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়ার শমসের আলীর মেয়ে রত্না বেগম ও তাঁর স্বামী রেজাউল তাঁদের শিশুসন্তানকে দেখাশোনা করার জন্য আসমাউলকে ঢাকায় নিয়ে যান। সে সময় তাঁরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, মেয়েটিকে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিয়ে-শাদির ব্যবস্থা করবেন। অথচ মেয়েটিকে বর্বর কায়দায় নির্যাতন করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় তাঁদের কাছে মেয়েটিকে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন তাঁরা।
এদিকে শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি বুধবার এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। পুলিশ নির্যাতনকারী দম্পতিকে খুঁজতে থাকে। তাঁদের না পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় রত্নার বাবা শমসের আলীকে আটক করে। রত্না বাবাকে ছাড়াতে থানায় এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই স্থানীয় একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রেজাউল করিম বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। গরম পানির পাত্রের ওপর পড়ে যাওয়ায় মেয়েটির শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল কবীর চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল ঢাকার হাজারীবাগ থানা এলাকায় হওয়ায় সেখানে মামলা দায়েরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
No comments:
Post a Comment