৯৭ উ প জে লা য় নি র্বা চ ন আ জ
ফলাফল নিয়ে আ.লীগে উৎকণ্ঠা
আপডেট:
উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল কেমন হবে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকারে
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে ফলাফলকে
এতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকেরা
মনে করছেন, একতরফা ছিল বলে জাতীয় নির্বাচনে দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। প্রধান বিরোধী দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এবার কার কী জনপ্রিয়তা, তা সহজে সামনে চলে আসবে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, উপজেলা নির্বাচনে ফলাফল অনুকূলে না থাকলে দলের জন্য তা অশনিসংকেত হিসেবে দেখতে হবে। মোট উপজেলার অন্তত অর্ধেকে দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পাস করানো সম্ভব না হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে অধিবেশনের বিরতির ফাঁকে দলীয় কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা একমত হন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো উপজেলাও এমন ফলাফল হলে দলের জন্য তা বিপর্যয়কর হবে। তৃণমূলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য অন্তত অর্ধেক উপজেলায় জয়লাভ করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
চার দফায় শেষ হবে উপজেলা নির্বাচন। প্রথম দফায় ৯৭টি উপজেলার ভোট গ্রহণ হবে আজ বুধবার। দলের অবস্থা কেমন, তা প্রথম দফার ভোটেই অনুমান করা যাবে। বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে না পারায় অস্বস্তি আরও বেশি দলটির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অনেকাংশ নির্ভর করতে পারে।
উপজলা নির্বাচনের প্রথম দফার তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সাত বিভাগে সাতটি দল গঠন করে দেওয়া হয়। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের তৃণমূল নেতাদের কাছে আলাদা চিঠি দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সাতটি দল সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সফর করে। কিন্তু ৯৭টি উপজেলার মধ্যে অন্থত ৪০টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছে। ঢাকা বিভাগের ২৬টি উপজেলার মধ্যে ১০টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তার পরও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন অর্ধেক উপজেলায় জেতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রথম আলোর কাছে।
রংপুর বিভাগের ১৭টি উপজেলার মধ্যে সাতটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কিছু জায়গায় বিদ্রোহীদের বসানো সম্ভব হয়নি। আর কিছু স্থানে কৌশলগত কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ধেক স্থানেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক মিজবাহউদ্দিন সিরাজ প্রথম আলোকে জানান, তাঁর বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও দল ভালো ফলাফল করবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে দুইটি উপজেলায় দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভবিষ্যতে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দল সরাসারি প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন কাগজেপত্রে অরাজনৈতিক হলেও বাস্তবে রাজনৈতিকভাবেই হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পরবর্তী সময়ে কীভাবে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকেরা
মনে করছেন, একতরফা ছিল বলে জাতীয় নির্বাচনে দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। প্রধান বিরোধী দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এবার কার কী জনপ্রিয়তা, তা সহজে সামনে চলে আসবে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, উপজেলা নির্বাচনে ফলাফল অনুকূলে না থাকলে দলের জন্য তা অশনিসংকেত হিসেবে দেখতে হবে। মোট উপজেলার অন্তত অর্ধেকে দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পাস করানো সম্ভব না হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে অধিবেশনের বিরতির ফাঁকে দলীয় কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা একমত হন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো উপজেলাও এমন ফলাফল হলে দলের জন্য তা বিপর্যয়কর হবে। তৃণমূলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য অন্তত অর্ধেক উপজেলায় জয়লাভ করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
চার দফায় শেষ হবে উপজেলা নির্বাচন। প্রথম দফায় ৯৭টি উপজেলার ভোট গ্রহণ হবে আজ বুধবার। দলের অবস্থা কেমন, তা প্রথম দফার ভোটেই অনুমান করা যাবে। বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে না পারায় অস্বস্তি আরও বেশি দলটির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অনেকাংশ নির্ভর করতে পারে।
উপজলা নির্বাচনের প্রথম দফার তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সাত বিভাগে সাতটি দল গঠন করে দেওয়া হয়। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের তৃণমূল নেতাদের কাছে আলাদা চিঠি দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। সাতটি দল সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সফর করে। কিন্তু ৯৭টি উপজেলার মধ্যে অন্থত ৪০টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছে। ঢাকা বিভাগের ২৬টি উপজেলার মধ্যে ১০টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তার পরও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন অর্ধেক উপজেলায় জেতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রথম আলোর কাছে।
রংপুর বিভাগের ১৭টি উপজেলার মধ্যে সাতটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কিছু জায়গায় বিদ্রোহীদের বসানো সম্ভব হয়নি। আর কিছু স্থানে কৌশলগত কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ধেক স্থানেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক মিজবাহউদ্দিন সিরাজ প্রথম আলোকে জানান, তাঁর বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও দল ভালো ফলাফল করবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে দুইটি উপজেলায় দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভবিষ্যতে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দল সরাসারি প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন কাগজেপত্রে অরাজনৈতিক হলেও বাস্তবে রাজনৈতিকভাবেই হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পরবর্তী সময়ে কীভাবে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
No comments:
Post a Comment